আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করে এখন অনেকেই স্বাবলম্বী ও লাভবান হয়েছে। আপনিও যদি আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করেন, তাহলে আপনিও স্বাবলম্বী হতে পারবেন। এখন আপনার মধ্যে কি আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি নিয়ে এই প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে যে আমিতো আঙ্গুর চাষ করতে চাই।
- কিন্তু, কিভাবে আঙ্গুরের জাত নির্বাচন করবো?
- কিভাবে আঙ্গুর গাছের চারা নির্বাচন করবো বা রোপন করবো?
- কিভাবে একটি জমি আঙ্গুর চাষের জন্য উপযোগী করে তুলবো?
- কিভাবে গাছের পরিচর্যা করবো, সঠিক নিয়মে সার দেয়ার নিয়ম এই বা কথায় থেকে জানবো?
- আঙ্গুর গাছের দাম কথায় থেকে জানবো, কথায় থেকে আঙ্গুর গাছের চারা সংগ্রহ করবো?
আচ্ছা! আপনি যেহেতু আঙ্গুর চাষ করতে আগ্রহি, সেক্ষেত্রে এইসব প্রশ্ন মনের মধ্যে তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তাহলে চলুন আমি আপনাকে আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করি,যাতে আপনি আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করে আঙ্গুর চাষ করতে পারেন।
প্রথমেই আপনাকে জানিয়ে দেই, আপনি এই আর্টিকেলের মধ্যে কি কি জানতে পারবেন! আপনি জানতে পারবেন আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে একদম বিস্তারিত। যেমনঃ আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি, আঙ্গুর গাছের চারা রোপন পদ্ধতি,কিভাবে আঙুর গাছের পরিচর্যা করতে হয়, আঙ্গুরের জাত কিভাবে নির্বাচন করবেন, আঙ্গুর চারা কোথায় পাওয়া যায়, আঙ্গুর গাছের কাটিং, আঙ্গুর চারা তৈরি, আঙ্গুর গাছের দাম একদম খুঁটিনাটি। চলুন এখন তাহলে শুরু করা যাক।

আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি
আঙ্গুর ফল পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। মিষ্টি ও রসালো এই ফল শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, এর পুষ্টিগুণও অনেক। আর যদি বলি, এই সুস্বাদু ফলটি আপনি নিজেই ফলাতে পারবেন?
হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন! বাণিজ্যিকভাবে বা বাড়ির ছাদে ছোট পরিসরেও আঙ্গুর চাষ করা সম্ভব। তবে এর জন্য সঠিকভাবে আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি জানা প্রয়োজন ও কিছু এর যত্নের।
আঙ্গুর চাষ শুরু করার আগে কিছু প্রাথমিক বিষয় জেনে রাখা ভালো। এতে আপনার শ্রম ও সময় দুটোই বাঁচবে।
১. আঙ্গুরের জাত নির্বাচন
আঙ্গুর অনেক জাতের হয়, যেমন – কালো আঙ্গুর, সবুজ আঙ্গুর, লাল আঙ্গুর ইত্যাদি। আমাদের দেশের আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি আবহাওয়ার সাথে মানানসই এবং ভালো ফলন দেয় এমন জাত নির্বাচন করা উচিত। সাধারণত, “ব্ল্যাক প্রিন্স”, “পারলেট”, “ফ্লেম সিডলেস” বা দেশি হাইব্রিড জাতগুলো বেশ জনপ্রিয়। আপনি কোন ধরনের আঙ্গুর ফলাতে চান এবং আপনার এলাকার আবহাওয়ার সাথে কোনটি ভালো মানাবে, সে বিষয়ে আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি জেনে নিন।
আরও পড়ুনঃ পাইওনিয়ার ভুট্টা ৩৩৫৫ চাষ পদ্ধতি সম্পূর্ণ গাইড
২. সঠিক স্থান নির্বাচন
আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি অনুযায়ী আঙ্গুর গাছ ভালোভাবে বেড়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত সূর্যালোক প্রয়োজন। এমন জায়গা নির্বাচন করুন যেখানে দিনে অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে। এছাড়া, বাতাস চলাচল ভালো হয় এবং পানি জমে থাকে না এমন উঁচু জমি বা ছাদের খোলামেলা জায়গা আঙ্গুর চাষের জন্য আদর্শ।
আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি অনুযায়ী আঙ্গুর চাষের জন্য নিচের ধরনের জমি সবচেয়ে উপযোগী—
- দো-আঁশযুক্ত লাল মাটি
- জৈব সারসমৃদ্ধ কাঁকর জাতীয় মাটি
- পাহাড়ি অঞ্চলের পাললিক মাটি
জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে, যাতে পানি জমে না থাকে। পাশাপাশি সারাদিন পর্যাপ্ত সূর্যালোক পড়ে—এমন জায়গা নির্বাচন করাই সবচেয়ে ভালো।
৩. মাটির প্রস্তুতি
আঙ্গুর গাছের জন্য সুনিষ্কাশিত দোআঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো। মাটির pH ৬.০ থেকে ৭.০ এর মধ্যে থাকা উচিত। যদি আপনার মাটির গুণগত মান ভালো না হয়, তাহলে জৈব সার, গোবর সার বা কম্পোস্ট মিশিয়ে মাটিকে উর্বর করে নিতে পারেন। মাটি ঝুরঝুরে করে ভালোভাবে প্রস্তুত করা খুবই জরুরি।

আঙ্গুর গাছের চারা রোপণ পদ্ধতি
আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি তে সঠিকভাবে আঙ্গুর গাছের চারা রোপণ করা আঙ্গুর চাষের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। নিচে আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি অনুসারে ধাপে ধাপে দেখুন একদম বিস্তারিত।
১. আঙ্গুর চারা কোথায় পাওয়া যায়
আঙ্গুরের চারা সাধারণত কাটিং বা গুটি কলমের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। বিশ্বস্ত নার্সারি থেকে সুস্থ ও সবল চারা সংগ্রহ করুন। চারা কেনার সময় খেয়াল রাখবেন যেন তাতে কোনো রোগ বা পোকার আক্রমণ না থাকে।
২. গর্ত তৈরি ও চারা রোপণ
জমি বা টবে চারা লাগানোর জন্য প্রথমে ১.৫ ফুট গভীর ও ১.৫ ফুট চওড়া গর্ত তৈরি করুন। গর্তের নিচে কিছু শুকনো গোবর সার, কম্পোস্ট এবং অল্প পরিমাণে টিএসপি ও পটাশ সার মিশিয়ে দিন। এরপর মাটি দিয়ে গর্তটি আংশিক ভরাট করুন এবং চারার গোড়ার মাটিসহ সাবধানে গর্তে বসিয়ে দিন। চারার চারপাশের মাটি ভালোভাবে চেপে দিন যাতে কোনো বাতাস না থাকে। যদি না বুঝতে পারেন, তাই আরও বিস্তারিত বলছিঃ
প্রথমে জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। এরপর—
- ৭০ × ৭০ × ৭০ সেমি আকারের গর্ত করতে হবে
- প্রতি গর্তে মেশাতে হবে:
- গোবর: ৪০ কেজি
- পটাশ: ৪০০ গ্রাম
- ফসফেট: ৫০০ গ্রাম
- ইউরিয়া: ১০০ গ্রাম
এই সার মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে ১০–১৫ দিন রেখে দিতে হবে। এরপর মাটির বলসহ চারা রোপণ করে একটি কাঠি পুঁতে গাছ সোজা করে বেঁধে দিতে হবে এবং হালকা সেচ দিতে হবে।
শাখা-কলমের ক্ষেত্রে ১ ফুট লম্বা ডাল কেটে তার এক-তৃতীয়াংশ মাটির নিচে কাত করে পুঁতলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
৩. রোপণের দূরত্ব
বাণিজ্যিক আঙ্গুর চাষের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৮-১০ ফুট এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৬-৮ ফুট রাখা ভালো। ছাদের টবে বা ড্রামে লাগালে প্রতিটি ড্রামে একটি করে চারা লাগাতে হবে।
আরও পড়ুনঃ ভুট্টা চাষ পদ্ধতি ও আধুনিক পদ্ধতিতে অধিক ফলন
আঙুর গাছের পরিচর্যা
চারা রোপণের পরেই আসল কাজ শুরু হয়। আঙ্গুর গাছের সঠিক যত্ন ফলনের পরিমাণ ও গুণগত মানকে প্রভাবিত করে।
১. আঙ্গুর গাছে পানি সেচ দেয়ার নিয়ম
আঙ্গুর গাছের জন্য নিয়মিত পানি সেচ খুবই জরুরি, বিশেষ করে চারা অবস্থায় এবং ফল আসার সময়। মাটি যেন শুকিয়ে না যায়, আবার অতিরিক্ত পানি জমেও না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। শীতকালে বা বৃষ্টির দিনে সেচের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারেন।

২. আঙুর গাছে সার প্রয়োগ পদ্ধতি
গাছের দ্রুত বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের জন্য নিয়মিত সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
- গোবর সার/কম্পোস্ট: প্রতি বছর একবার গাছের গোড়ায় ভালোভাবে পচন ধরা গোবর সার বা কম্পোস্ট প্রয়োগ করুন।
- রাসায়নিক সার: চারা লাগানোর পর থেকে প্রতি ৩-৪ মাস অন্তর ইউরিয়া, টিএসপি এবং পটাশ সার সুষম মাত্রায় প্রয়োগ করুন। ফল আসার আগে পটাশ সারের পরিমাণ একটু বাড়িয়ে দিতে পারেন, যা ফলকে মিষ্টি ও পুষ্টিকর বানাতে সাহায্য করে।
বিষয়টি যদি কম বুঝে থাকেন, তাহলে গুছিয়ে বলতেছিঃ
- রোপণের ১ মাসের মধ্যে গাছের বৃদ্ধি ভালো না হলে গোড়ার মাটি আলগা করে ৫ গ্রাম ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
- ১–৩ বছর বয়সী প্রতিটি গাছে বছরে দিতে হবে—
- গোবর: ১০ কেজি
- পটাশ: ৪০০ গ্রাম
- ফসফেট: ৫০০ গ্রাম
- ইউরিয়া: ১০০ গ্রাম
👉 পটাশ সার ব্যবহারে আঙ্গুর বেশি মিষ্টি হয় এবং রোগ-বালাই কমে।
বয়স্ক গাছের জন্য (প্রতি বছর এপ্রিল মাসে):
- তেলের খৈল: ২ কেজি
- হাড় চূর্ণ: ১ কেজি
- সালফেট অব পটাশ: ১ পোয়া
বৃষ্টির সময় পরিচর্যা
- বছরে দুবার ফুল আসে: মার্চ ও জুলাই মাসে
- আঙ্গুর পাকার সময় বৃষ্টি হলে ফল ফেটে যেতে পারে
👉 তাই মাচার ওপর পলিথিন শিট দিয়ে ঢেকে রাখা জরুরি।
৩. আঙ্গুর গাছের আগাছা দমন
আঙ্গুর গাছের গোড়ায় আগাছা জমলে তা গাছের খাদ্য ও পানি শোষণে বাধা দেয়। তাই নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করুন।
৪. আঙ্গুর গাছের ঠেস বা মাচা তৈরি
আঙ্গুর গাছ লতানো প্রকৃতির হয়, তাই এর বেড়ে ওঠার জন্য ঠেস বা মাচার প্রয়োজন। গাছ ছোট থাকা অবস্থায় একটি লাঠি বা খুঁটির সাহায্যে ঠেস দিতে পারেন। যখন গাছ বড় হবে, তখন শক্ত তার বা বাঁশের মাচা তৈরি করে দিন যাতে গাছ মাচায় ছড়িয়ে যেতে পারে।
৫. আঙ্গুর গাছের কাটিং
আঙ্গুর চাষে ডাল ছাঁটাই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটি গাছের বৃদ্ধি, ফলন এবং ফলের গুণগত মানকে প্রভাবিত করে। বছরে সাধারণত দুইবার প্রুনিং করা হয়:
- গ্রীষ্মকালীন প্রুনিং: নতুন ডালপালা ছাঁটাই করা হয়।
- শীতকালীন প্রুনিং: ফল সংগ্রহের পর বা শীতের শেষে গাছ যখন সুপ্তাবস্থায় থাকে, তখন শুকনো, রোগাক্রান্ত বা অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছাঁটাই করা হয়। এতে নতুন কুঁশি বের হতে এবং বেশি ফল ধরতে সাহায্য করে।
মনে রাখবেনঃ —
রোপণের পরের বছর ফেব্রুয়ারি মাসে মাচায় ওঠা কাণ্ড ছাঁটাই করতে হবে। এতে—
- ফলন বাড়ে
- ফুল ঝরে পড়া কমে
ছাঁটাইয়ের ৭ দিন আগে ও পরে গোড়ায় হালকা সেচ দিতে হবে।
মাচায় ওঠা পর্যন্ত প্রধান কাণ্ড ছাড়া অন্য সব পার্শ্বশাখা ভেঙে ফেলতে হবে।
৫.১ . ধাপে ধাপে ছাঁটাই পদ্ধতি
প্রথম ছাঁটাইঃ মাচায় ওঠার পর প্রধান কাণ্ড ৩৫–৪৫ সেমি হলে শীর্ষ কেটে দিতে হবে। এতে দুই পাশে ৪টি শাখা গজাবে।
দ্বিতীয় ছাঁটাইঃ এই ৪টি শাখা ১৫–২০ দিনে ৪৫–৬০ সেমি হলে আবার শীর্ষ কেটে দিতে হবে। তখন ১৬টি প্রশাখা তৈরি হবে।
তৃতীয় ছাঁটাইঃ ১৬টি প্রশাখা বড় হলে আবার ছাঁটাই করতে হবে। এতে প্রতিটি শাখা থেকে নতুন শাখা বের হয়ে মোটামুটি ৬৪টি শাখা তৈরি হতে পারে।
👉 এই শাখার গিরার মধ্যেই আগে ফুল, পরে মটরের মতো ফল ধরে এবং শেষ পর্যন্ত আঙ্গুরে রূপ নেয়।
প্রথম বছর ফল পাওয়ার পর শাখাগুলো ১৫–২০ সেমি রেখে ফেব্রুয়ারিতে ছেঁটে দিতে হবে। এই নিয়ম ৩–৪ বছর অনুসরণ করলে গাছ পূর্ণ উৎপাদনে আসে।
৬. রোগ ও পোকা দমন
আঙ্গুর গাছে বিভিন্ন ধরনের রোগ ও পোকার আক্রমণ হতে পারে।
- রোগ: পাউডারি মিলডিউ, অ্যানথ্রাকনোজ, ডাউনি মিলডিউ ইত্যাদি রোগ দেখা যায়। আক্রান্ত পাতা বা ডাল সরিয়ে ফেলা এবং অনুমোদিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করে এগুলি দমন করা যায়।
- পোকা: পাতা খেকো পোকা, জাব পোকা ইত্যাদি আক্রমণ করতে পারে। নিয়মিত গাছ পর্যবেক্ষণ করে পোকা দেখা গেলে কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন। তবে রাসায়নিক ব্যবহারের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন।
আঙ্গুর গাছের দাম
আঙ্গুর গাছের দাম একেক সময় একেক রকম হয়ে থাকে, তবে আপনি বিভিন্ন নার্সারিগুলোতে গিয়ে দাম জানতে পারেন, তবুও আপনাকে একটা দামের ধারনা দিচ্ছি। বাংলাদেশে জাত ও চারার আকারের ওপর ভিত্তি করে আঙ্গুর গাছের দাম সাধারণত ৩০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। তবে, উন্নত জাতের (যেমন- বায়েকুনুর, জয় সীডলেস, ব্ল্যাক) কলম চারাগুলোর দাম সাধারণত ৫০০-৭০০ টাকার আশেপাশে হয় থাকবে।
আঙ্গুর গাছে ফুল আসার সময়
আঙুর গাছে সাধারণত প্রতি বছরে দুবার করে ফুল আসেঃ প্রথমবার মার্চ মাসে এবং দ্বিতীয়বার জুন-জুলাই মাসের দিকে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অক্টোবর-নভেম্বরে ডাল ছাঁটাই (Pruning) করলে মার্চ-এপ্রিল মাসেই প্রধান ফুল ও ফল পাওয়া যায়। ফুল আসার পর থেকে ফল পাকা পর্যন্ত প্রায় ১২০ দিন বা ৪ মাস সময় লাগে।
আঙ্গুর ফল সংগ্রহ
আঙ্গুর সাধারণত রোপণের ২-৩ বছর পর থেকে ফল দিতে শুরু করে। ফলের রঙ পুরোপুরি পরিবর্তিত হলে এবং স্বাদে মিষ্টি হলে বুঝবেন ফল পরিপক্ক হয়েছে। আঙ্গুর গুচ্ছ ধরে সাবধানে কেটে সংগ্রহ করুন।
ফল বড় ও মিষ্টি করার জন্য স্প্রে
ফল ধরার পর প্রতি লিটার পানিতে মেশাতে হবে—
- ইথরেল: ৫০ মিলিলিটার
- জিবারেলিক অ্যাসিড: ১০০ মিলিগ্রাম
১৫ দিন পরপর ২–৩ বার স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

পাখি থেকে রক্ষা
ফল ধরার পর পাখি থেকে আঙ্গুরকে রক্ষা করা একটি চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে জাল দিয়ে গাছ ঢেকে দেওয়া একটি কার্যকর পদ্ধতি।
উপসংহার
আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি প্রথমদিকে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং মনে হলেও সঠিক পরিকল্পনা, যত্ন ও পরিচর্যার মাধ্যমে আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি এটি একটি অত্যন্ত লাভজনক কৃষিকাজে পরিণত হতে পারে।আপনি ধৈর্য ধরে আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করলে আপনার আঙ্গুর বাগান ভরে উঠবে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফলে।
আঙ্গুর চাষ পদ্ধতি শুধু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই নয়, বাড়ির ছাদে বা আঙিনাতেও আপনি আঙ্গুর ফলিয়ে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে পারেন। আশা করি, আঙ্গুর চাষ পদ্ধতির এই বিস্তারিত গাইড আপনাকে আঙ্গুর চাষে উৎসাহিত করবে এবং সফল হতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুনঃ সুপারি চাষ পদ্ধতি, সুপারি সার প্রয়োগ পদ্ধতি ও গাছ লাগানোর নিয়ম
FAQs
প্রশ্ন ১: বাংলাদেশে কোন সময়ে আঙ্গুর চারা রোপণ করা ভালো?
উত্তর: বাংলাদেশে সাধারণত বসন্তকালে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) বা বর্ষার শুরুতে (মে-জুন) আঙ্গুর চারা রোপণ করা সবচেয়ে ভালো।
প্রশ্ন ২: আঙ্গুর গাছে কতদিন পর ফল ধরে?
উত্তর: সাধারণত, আঙ্গুর গাছ রোপণের ২ থেকে ৩ বছর পর থেকে ফল দিতে শুরু করে। তবে জাতভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
প্রশ্ন ৩: ছাদের টবে আঙ্গুর চাষ কি সম্ভব?
উত্তর: হ্যাঁ, ছাদের টবে বা বড় ড্রামেও আঙ্গুর চাষ সম্ভব। এক্ষেত্রে সঠিক জাত নির্বাচন, পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশ্ন ৪: আঙ্গুর গাছ কি সারা বছর ফল দেয়?
উত্তর: না, আঙ্গুর গাছ সারা বছর ফল দেয় না। সাধারণত বছরে একবার বা জাতভেদে দুইবার ফল দিয়ে থাকে।
প্রশ্ন ৫: আঙ্গুরের ডাল ছাঁটাই কেন জরুরি?
উত্তর: ডাল ছাঁটাই গাছের সুষম বৃদ্ধি, নতুন ডালপালা গজানো এবং বেশি ও উন্নত মানের ফলন নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এটি রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
I am Moshiur Rahman, an enthusiastic writer on agricultural information and research. I strive to deliver reliable and easy-to-understand information on modern agricultural technology, crop production, agricultural loans, and agricultural development, so that farmers and all those involved in agriculture can benefit.



