গরুর ভ্যাকসিন সিডিউল ২০২৬, গরুর ভ্যাকসিনের দাম, পূর্ণাঙ্গ গরুর ভ্যাকসিন তালিকা ও গরুর ভ্যাকসিন দেওয়ার নিয়ম—সব তথ্য একসাথে জানতে চান? তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য অনেক উপকারি হবে।
একজন খামারি হিসেবে আপনার সবথেকে বড় সম্পদ হলো আপনার গবাদি পশু। কিন্তু হুট করে কোনো রোগ এসে যদি আপনার শখের খামারটি ধ্বংস করে দেয়, তবে তার চেয়ে কষ্টের আর কিছু হতে পারে না।
আমরা অনেকেই গরু পালন করি, কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক টিকা বা ভ্যাকসিন না দেওয়ার কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ি।
গবাদি পশুর রোগবালাই প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার হলো সঠিক একটি গরুর ভ্যাকসিন সিডিউল মেনে চলা। আজকের এই বিস্তারিত আর্টিকেলে আমরা একদম সহজ ভাষায় জানবো, কখন গরুর কোন ভ্যাকসিন দিতে হয়, কেন দিতে হয় এবং গরুর ভ্যাকসিন দেওয়ার আগে-পরে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। আপনি যদি নতুন খামারি হন বা দীর্ঘদিন ধরে গরু পালন করছেন কিন্তু সঠিক নিয়মটি খুঁজছেন, তবে এই লেখাটি আপনার জন্য।

গরুর ভ্যাকসিন সিডিউল কেন মেনে চলা জরুরি?
প্রবাদে আছে, “প্রতিরোধ প্রতিকারের চেয়ে শ্রেয়”। একটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসা করতে যে টাকা খরচ হয়, তার চেয়ে অনেক কম খরচে গরুর ভ্যাকসিন দিয়ে রোগ ঠেকানো সম্ভব। এছাড়া অসুস্থ গরু সুস্থ হওয়ার পর তার উৎপাদনশীলতা (দুধ বা মাংস) আগের মতো থাকে না।
সঠিক গরুর ভ্যাকসিন সিডিউল অনুসরণ করার প্রধান কারণগুলো হলো:
১. মড়ক থেকে রক্ষা: খুরা রোগ বা বাদলার মতো রোগগুলো একবার খামারে ঢুকলে একের পর এক গরু মারা যেতে থাকে। ভ্যাকসিন এই ঝুঁকি প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনে।
২. আর্থিক সাশ্রয়: চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি, কিন্তু সরকারি বা বেসরকারি ভ্যাকসিনের দাম তুলনামূলক অনেক কম।
৩. টেকসই খামার: নিয়মিত ভ্যাকসিন দিলে খামারের গরুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, ফলে গরু দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
৪. নিরাপদ খাদ্য: সুস্থ গরুর দুধ ও মাংস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ।
গরুর ভ্যাকসিন দেওয়ার আগে প্রথম ধাপ: কৃমিনাশক ডোজ
আপনি যদি গরুকে ভ্যাকসিন দিতে চান, তবে তার আগে অবশ্যই গরুর পেটের কৃমি পরিষ্কার করতে হবে। কৃমি থাকলে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা অনেক কমে যায়। সাধারণত ভ্যাকসিন দেওয়ার ৭-১০ দিন আগে ভালো মানের কৃমিনাশক ঔষধ (এন্ডোপ্যারাসাইট এবং এক্টোপ্যারাসাইট উভয়ই) খাওয়াতে হয়। এটি আপনার গরুর ভ্যাকসিন সিডিউল শুরু করার প্রাথমিক শর্ত।
বাংলাদেশের গরুর প্রধান কয়েকটি রোগ ও ভ্যাকসিনের প্রয়োজনীয়তা
আমাদের দেশে গবাদি পশুর কয়েকটি প্রাণঘাতী রোগ দেখা যায়। নিচে সংক্ষেপে সেগুলো আলোচনা করা হলো:
১. খুরা রোগ (FMD – Foot and Mouth Disease)
এটি গরুর সবথেকে ভয়াবহ ভাইরাসজনিত রোগ। এই রোগে গরুর মুখে ও পায়ে ঘা হয়, প্রচণ্ড জ্বর থাকে এবং মুখ দিয়ে লালা পড়ে। খুরা রোগে গরু মারা না গেলেও এটি গরুর স্বাস্থ্য ও দুধের উৎপাদন স্থায়ীভাবে কমিয়ে দেয়।
২. তড়কা (Anthrax)
তড়কা একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। এটি মানুষের শরীরেও ছড়াতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত গরু হঠাৎ করে কাঁপতে কাঁপতে মারা যায় এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও ভয়ংকর।
৩. বাদলা (Black Quarter)
এই রোগে গরুর পেছনের বা সামনের পায়ের মাংসপেশি ফুলে যায়। ফোলা জায়গায় চাপ দিলে পচপচ শব্দ হয়। গরু খুড়িয়ে হাঁটে এবং খুব দ্রুত মারা যায়।
৪. গলাফুলা ( Haemorrhagic Septicaemia )
বর্ষার শুরুতে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। গরুর গলা ফুলে যায় এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ঘড়ঘড় শব্দ করে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গরু মারা যেতে পারে।
৫. ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ ( LSD )
বর্তমান সময়ে খামারিদের মাথাব্যথার বড় কারণ হলো ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ। এতে গরুর সারা শরীরে গুটি গুটি হয়ে ফুলে যায় এবং পরবর্তীকালে ঘা হয়ে যায়। সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন না দিলে এটি খামারের ব্যাপক ক্ষতি করে।
গরুর ভ্যাকসিন সিডিউল
একটি আদর্শ গরুর ভ্যাকসিন সিডিউল নিচে তুলে ধরা হলো। মনে রাখবেন, এলাকাভেদে বা রোগের প্রকোপ ভেদে এটি সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। তবে সাধারণ নিয়মটি এমন:
| ভ্যাকসিনের নাম | প্রথম বার দেওয়ার বয়স | বুস্টার ডোজ (যদি লাগে) | পরবর্তী ডোজ |
| খুরা রোগ (FMD) | ৪ মাস বয়সে | ২১ দিন পর | প্রতি ৬ মাস অন্তর |
| তড়কা (Anthrax) | ৬ মাস বয়সে | দরকার নেই | প্রতি ১ বছর অন্তর |
| বাদলা (BQ) | ৬ মাস বয়সে | ২১ দিন পর | প্রতি ১ বছর অন্তর |
| গলাফুলা (HS) | ৬ মাস বয়সে | ২১ দিন পর | প্রতি ১ বছর অন্তর |
| ল্যাম্পি স্কিন (LSD) | ৪ মাস বয়সে | দরকার নেই | প্রতি ১ বছর অন্তর |
ভ্যাকসিন তালিকাটি ব্যবহারের নিয়ম
নিচে প্রতিটি ভ্যাকসিন সম্পর্কে কিছু জরুরি তথ্য দেওয়া হলো যা একজন খামারি হিসেবে আপনার জানা থাকা প্রয়োজন:
১. খুরা রোগের (FMD) ভ্যাকসিন
এটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সাধারণত বছরে দুইবার (বর্ষার আগে এবং শীতের আগে) এই টিকা দেওয়া উচিত। এটি তিন ধরণের ভাইরাসের (O, A, Asia-1) বিরুদ্ধে কাজ করে এমন ট্রাইভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন হওয়া ভালো।
২. ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ (LSD) ভ্যাকসিন
বর্তমানে ল্যাম্পি স্কিন একটি বড় আতঙ্ক। যেহেতু এর নির্দিষ্ট কোনো ঔষধ নেই, তাই বাছুরের বয়স ৪ মাস হলেই এই টিকা দিয়ে দিন। সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে এই টিকা দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
৩. গলাফুলা (HS) ও বাদলা (BQ) ভ্যাকসিন
বর্ষাকালে এই দুটি রোগের প্রকোপ বাড়ে। তাই মে-জুন মাসের মধ্যে এই টিকাগুলো সম্পন্ন করা উচিত। তড়কা, বাদলা ও গলাফুলা—এই তিনটিই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, তাই এগুলো নিয়ম মেনে দিলে মৃত্যুর হার অনেক কমে যায়।
বাছুরের জন্য বিশেষ সিডিউল
অনেকে মনে করেন ছোট বাছুরকে ভ্যাকসিন দেওয়ার দরকার নেই। এটি ভুল ধারণা। বাছুরের বয়স ৪ মাস পূর্ণ হলেই তাকে গরুর ভ্যাকসিন সিডিউল অনুযায়ী প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু করতে হবে। তবে মা গরুকে যদি নিয়মিত ভ্যাকসিন দেওয়া থাকে, তবে বাছুর জন্মের প্রথম ৩-৪ মাস মায়ের দুধ থেকেই প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি পায়।
ভ্যাকসিন দেওয়ার সঠিক সময় ও ক্যালেন্ডার
আমাদের দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ভ্যাকসিন দিলে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যায়। নিচে একটি সাধারণ ক্যালেন্ডার দেওয়া হলো:
- মার্চ – এপ্রিল: বর্ষা আসার আগেই খুরা রোগ এবং গলাফুলা রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া সবথেকে ভালো। কারণ বর্ষাকালে এই রোগগুলোর প্রকোপ বাড়ে।
- মে – জুন: এই সময়ে তড়কা বা অ্যানথ্রাক্স ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত।
- সেপ্টেম্বর – অক্টোবর: খুরা রোগের দ্বিতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ দেওয়ার উপযুক্ত সময়।
- জানুয়ারি – ফেব্রুয়ারি: ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ বা অন্য কোনো পেন্ডিং ভ্যাকসিন এই সময়ে দিয়ে দেওয়া ভালো।
গরুর ভ্যাকসিন দেওয়ার নিয়ম
গরুর ভ্যাকসিন দেওয়ার সময় কিছু ছোট ভুল আপনার পুরো পরিশ্রম বৃথা করে দিতে পারে। তাই নিচের নিয়মগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন:
১. সুস্থ গরুকে টিকা দিন: কোনো গরু যদি আগে থেকেই অসুস্থ থাকে বা জ্বর থাকে, তবে তাকে কোনোভাবেই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না। সুস্থ হওয়ার পর টিকা দিন।
২. ঠান্ডা আবহাওয়ায় টিকা দিন: প্রচণ্ড রোদে বা গরমে ভ্যাকসিন দেবেন না। সকালের শুরুতে অথবা বিকেলের দিকে যখন তাপমাত্রা কম থাকে, তখন ভ্যাকসিন দেওয়া সবথেকে নিরাপদ।
৩. কোল্ড চেইন বজায় রাখা: ভ্যাকসিন অবশ্যই ফ্রিজে বা বরফের বক্সের ভেতরে রাখতে হবে। ফ্রিজ থেকে বের করার পর দীর্ঘক্ষণ বাইরে রাখা যাবে না। সরাসরি রোদ লাগলে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।
৪. সিরিঞ্জ ও নিডেল: প্রতিটি গরুর জন্য আলাদা আলাদা সূঁচ বা নিডেল ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। এতে একজনের রোগ অন্যজনের শরীরে ছড়ানোর ভয় থাকে না।
৫. ইনজেকশন দেওয়ার স্থান: সাধারণত গরুর ঘাড়ের চামড়ার নিচে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। ইনজেকশন দেওয়ার জায়গাটি আগে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো।
৬. গর্ভবতী গরুর ক্ষেত্রে সতর্কতা: অনেক সময় গর্ভবতী গরুর শেষ মাসগুলোতে ভ্যাকসিন দেওয়া এড়িয়ে চলা হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিরাপদ ভ্যাকসিন দেওয়া যায়।
ভ্যাকসিন দেওয়ার পর কী হতে পারে?
ভ্যাকসিন দেওয়ার পর গরু সামান্য অসুস্থ বোধ করতে পারে। এতে ভয়ের কিছু নেই। সাধারণত যা হতে পারে:
- যেখানে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে সেই জায়গাটি সামান্য ফুলে যেতে পারে।
- গরুর হালকা জ্বর আসতে পারে।
- ১-২ দিন গরু খাবার কম খেতে পারে বা দুধের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে।
- এসব ক্ষেত্রে গরুকে বিশ্রাম দিন এবং বেশি করে পানি পান করান। সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব ঠিক হয়ে যায়। সমস্যা বেশি মনে হলে স্থানীয় পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ভ্যাকসিন কোথায় পাবেন?
আমাদের দেশে সরকারি এবং বেসরকারি দুইভাবেই ভ্যাকসিন পাওয়া যায়।
- সরকারি উৎস: উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বা ভেটেরিনারি হাসপাতালে খুব সামান্য মূল্যে সরকারি ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। এটি খামারিদের জন্য সবথেকে সাশ্রয়ী মাধ্যম।
- বেসরকারি উৎস: বিভিন্ন নামী ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি (যেমন: এসিআই, রেনাটা, এফএনএফ ইত্যাদি) উন্নতমানের ভ্যাকসিন বাজারজাত করে। আপনি ভালো রেজিস্টার্ড ওষুধের দোকান থেকে এগুলো সংগ্রহ করতে পারেন।
তবে যেখান থেকেই কিনুন না কেন, ভ্যাকসিনের এক্সপায়ারি ডেট (মেয়াদ) দেখে কিনবেন এবং আনার সময় অবশ্যই বরফের ফ্লাস্ক ব্যবহার করবেন।
ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ (LSD) নিয়ে বিশেষ সতর্কতা
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ মহামারি আকার ধারণ করেছে। অনেক খামারি এই রোগের কারণে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই, একমাত্র সমাধান হলো ভ্যাকসিন। আপনার গরুর ভ্যাকসিন সিডিউল-এ অবশ্যই এলএসডি (LSD) ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত করুন। গোট পক্স (Goat Pox) ভ্যাকসিন দিয়েও অনেক সময় এলএসডি প্রতিরোধ করা হয়, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এটি করা উচিত।
গরুর প্রধান ভ্যাকসিনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও সময়সূচী

গরুর ভ্যাকসিনের দাম
বর্তমানে বাংলাদেশে গরুর ভ্যাকসিনের সঠিক বাজার দর নিচে চার্ট আকারে দেওয়া হলো। এটি সরকারি এবং বেসরকারি (ফার্মাসিউটিক্যালস) দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে কারণ উভয় ক্ষেত্রে দামের বড় পার্থক্য থাকে।
১. সরকারি ভ্যাকসিনের মূল্য তালিকা (প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নির্ধারিত)
সরকারি ভ্যাকসিনগুলো সাধারণত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে পাওয়া যায়।[1] এগুলো ভায়াল হিসেবে বিক্রি হয়।

২. বেসরকারি কোম্পানির ভ্যাকসিনের বাজার দর (MRP)
বেসরকারি ভ্যাকসিনগুলো সাধারণত ডেইরি খামারিরা বেশি ব্যবহার করেন। কোম্পানি ও আমদানিকারকভেদে দাম সামান্য কম-বেশি হতে পারে, তবে বর্তমান বাজার অনুযায়ী প্রচলিত কিছু ভ্যাকসিনের দাম নিচে দেওয়া হলো:

বিশেষ দ্রষ্টব্য:
১. সরকারি ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে ক্ষেত্রবিশেষে ১০-২০ টাকা সার্ভিস চার্জ বা সিরিঞ্জ খরচ হিসেবে বেশি নেওয়া হতে পারে।
২. বেসরকারি ভ্যাকসিনের দাম বাজার চাহিদা ও স্টকের ওপর ভিত্তি করে ৫-১০% তারতম্য হতে পারে।
৩. ভ্যাকসিন কেনার সময় অবশ্যই এর এক্সপায়ারি ডেট (মেয়াদ) এবং কোল্ড চেইন (ঠাণ্ডা রাখা হয়েছে কি না) যাচাই করে নেবেন
উপসংহার
একটি লাভজনক খামার গড়ে তোলার প্রথম শর্তই হলো পশুকে সুস্থ রাখা। আর সুস্থ রাখার সবথেকে সহজ ও সস্তা উপায় হলো সঠিক গরুর ভ্যাকসিন সিডিউল মেনে চলা। আপনি যদি নিয়ম করে আপনার গরুকে খুরা রোগ, বাদলা, গলাফুলা ও ল্যাম্পি স্কিনের টিকা দেন, তবে আপনার খামারে বড় ধরনের কোনো বিপদের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে।
খামার আপনার স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্নের সুরক্ষায় অবহেলা করবেন না। আজই আপনার নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করুন এবং একটি রেজিস্টার খাতায় আপনার প্রতিটি গরুর ভ্যাকসিনের তারিখ লিখে রাখুন। মনে রাখবেন, সচেতনতাই আপনার খামারের সাফল্যের চাবিকাঠি।
FAQ
১. ভ্যাকসিন কি ১০০% গ্যারান্টি দেয় যে রোগ হবে না?
উত্তরঃ ভ্যাকসিন দিলে রোগের ঝুঁকি প্রায় ৯৫-৯৯% কমে যায়। তবে কোনো কারণে ভ্যাকসিনের কোল্ড চেইন ঠিক না থাকলে বা গরুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব কম থাকলে সামান্য আক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রেও গরু মারা যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।
২. গর্ভবতী গরুকে কি সব টিকা দেওয়া যায়?
উত্তরঃ অধিকাংশ ভ্যাকসিন গর্ভবতী গরুকে দেওয়া যায়, তবে শেষ মাসে বা বাচ্চা প্রসবের ঠিক আগে না দেওয়াই ভালো। কোনো কোনো কোম্পানি গর্ভবতী গরুর জন্য বিশেষ সতর্কতা দেয়, তাই টিকা দেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৩. একই দিনে কি একাধিক ভ্যাকসিন দেওয়া যায়?
উত্তরঃ না, সাধারণত একই দিনে দুটি ভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত নয়। দুটি ভ্যাকসিনের মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ২১ দিনের ব্যবধান রাখা উচিত। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিকভাবে তৈরি হতে পারে।
৪. ভ্যাকসিন দেওয়ার পরও যদি গরু অসুস্থ হয় তবে কী করব?
উত্তরঃ ভ্যাকসিন দেওয়ার পরও যদি গরু কোনো রোগে আক্রান্ত হয়, তবে বুঝতে হবে শরীর অ্যান্টিবডি তৈরি করার আগেই জীবাণু আক্রমণ করেছে। দ্রুত একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি সার্জনের সাথে যোগাযোগ করুন এবং যথাযথ চিকিৎসা শুরু করুন।
৫. সরকারি নাকি বেসরকারি—কোন ভ্যাকসিন বেশি কার্যকর?
উত্তরঃ সরকারি এবং নামী বেসরকারি কোম্পানির উভয় ভ্যাকসিনই কার্যকর। তবে সরকারি ভ্যাকসিনের দাম অনেক কম হওয়ায় খামারিদের জন্য এটি সুবিধাজনক। মূল বিষয় হলো ভ্যাকসিনটি সঠিকভাবে ঠান্ডা অবস্থায় (Cold Chain) রাখা হয়েছিল কি না।
I am Moshiur Rahman, an enthusiastic writer on agricultural information and research. I strive to deliver reliable and easy-to-understand information on modern agricultural technology, crop production, agricultural loans, and agricultural development, so that farmers and all those involved in agriculture can benefit.

