নিম পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা আপনার জানা খুবই উপকারে আসবে বলে আমি মনে করি। নিম পাতার উপকারিতা অনেক বেশি যেগুলো দৈনন্দিন জীবনে হয়তো আপনার প্রয়োজন হবে।
আপনি কি জানতে চান যে —-
- নিম পাতার উপকারিতা কি ?
- কিভাবে এই নিম পাতা আমাদের উপকার করে?
- নিম পাতার সিদ্ধ পানি খাওয়ার উপকারিতা কি?
- এই নিম পাতাকে কিভাবে খেতে হয়, কিভাবে খেলে উপকার পাওয়া যাবে, নিম পাতা খাওয়ার নিয়ম?
- আপনার মনে কি আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে যে, নিম পাতার তো উপকারিতা আছে , তাহলে এই নিম পাতার ক্ষতিকর দিক কি?
- আরও প্রশ্ন আছে কি! যে, নিম পাতার রস খাওয়ার উপকারিতা কি?
- মুখেও কি নিম পাতা ব্যবহার করা যায়? আমার তো মুখে ব্রন আছে, এই নিম পাতা কি ব্রনের জন্য উপকারি?
তাহলে যদি আপনার মনে এইসব প্রশ্ন থেক থাকে কিংবা এইসব সম্পর্কে আপনি সঠিক তথ্য জানতে চান, তাহলে আজকের আর্টিকেলটি খুব মনোযোগ সহকারে পরবেন। আমি আশা করি যে এটি আপনার উপকারে আসবে।
তো আপনি কি কি জানতে পারবেন আজকে জেনে নিন। আপনি জানতে পারবেন নিম পাতার উপকারিতা, যার মধ্যে রয়েছে- নিম পাতা সিদ্ধ পানি খাওয়ার উপকারিতা, নিম পাতার বড়ি খেলে কি হয়, নিম পাতার ক্ষতিকর দিক, খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়, নিম পাতার ব্যবহার, নিম পাতার রস খাওয়ার উপকারিতা, নিম পাতার রস খাওয়ার নিয়ম, নিম পাতা মুখে দিলে কি হয়।
নিম পাতার ইংরেজি নাম কি
নিম পাতা যার ইংরেজি নাম Neem Leaves যা প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিম গাছের প্রতিটি অংশ যেমনঃ পাতা, গাছের ছাল, ফল এবং বীজ অনেক অনেক উপকারী। তবে নিম পাতার উপকারিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

নিম পাতার উপকারিতা
নিম পাতার উপকারিতা অনেক, নিম পাতা এটি ভেষজ চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে পরিচিত এবং এর অ্যান্টিসেপ্টিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণাবলি মানুষের শরীরের বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে। চলুন জেনে নেই নিম পাতার উপকারিতা;
- র’ক্ত পরিষ্কার করে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে
- এটি অ্যালার্জি, এ’কজি’মা ও চ’র্ম’রোগ নিয়ন্ত্রণ করে
- জ’ন্ডিস ও ভা’ইরাস জাতীয় রোগ নিরাময়ে এটির ব্যবহার বহুকাল ধরেই প্রচলিত আছে।
- ত্বকের ইরি’টেশন, ব্র’ণ ও ক্ষ’ত ছাড়াও মুখের দাগছোপ দূর করে
- চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও চুলের খু’শকি দূর করতে যাদুর মতো কাজ করে
- শিশুরা বেশিরভাগ সময় কৃ’মির দ্বারা আক্রান্তের শিকার হয়, তাদের এটি নিরাময়েও নিমের পাতার উপকারিতা রয়েছে
- শরীরে বিভিন্ন ভাবে টক্সিক উপাদান প্রবেশ করে তাই,এইসব ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া গুলোকে বের করতে নিম পাতার গুঁড়ো সেবন অনেক উপকারী
- নিম পাতার গুঁড়ো দিয়ে পেস্ট বানিয়ে চুলে ব্যবহার করলে নিমেষেই উকুনের সমস্যা দূর হয়।
নিম পাতার বৈজ্ঞানিক নাম
নিম পাতার বৈজ্ঞানিক নাম হলো Azadirachta indica, যা বিভিন্ন ভেষজ সমস্যার সমাধানে অনেক কার্যকর। নিয়মিত নিম পাতা ব্যবহার করলে ত্বক, চুল, পেট, লিভার এবং মানুষের অন্যান্য অঙ্গের রোগ প্রতিরোধে এটি অসাধারণ ভূমিকা রাখতে পারে। চলুন নিম পাতার উপকারিতা এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানি।
আরও পড়ুনঃ সুপারি চাষ পদ্ধতি, সুপারি সার প্রয়োগ পদ্ধতি ও গাছ লাগানোর নিয়ম
নিম পাতার ব্যবহার
আপনি তো নিম পাতার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারলেন, এখন এর ব্যবহারও একটু জেনে নিন।
- অ্যালার্জি সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান হচ্ছে নিম পাতা। প্রতিদিন কয়েকটি নিম পাতা পানিতে ফুটিয়ে নিন এরপর, পানি ঠান্ডা হলে সেই পানিতে গোসল করলে এলার্জির দ্রুত সমাধান পাবেন।
- এছাড়া, কাঁচা হলুদের সাথে নিম পাতা বেটে আক্রান্ত স্থানে লাগালে দ্রুত আক্রান্ত স্থান উপশম হয়।
- নিম পাতায় মুখের অনেক জীবাণু ধ্বংস হয়। সেই সাথে দাঁতের মাড়ির ব্যথা কমে যায়। নিম পাতার কান্ড দিয়ে বানানো মেসওয়াক দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে দাঁতের ক্ষয়রোধ হয়।
- জ্বর, সর্দিকাশি হলে এই নিম পাতা ব্যবহারে সহজে এ সকল সংক্রমণ থেকে সুস্থ থাকা যায়
- নিম পাতায় চোখের চুলকানি ও অস্বস্তি দূর হয়।
- মাথার চুলে উকুন দূর করতে নিম পাতা খুবই উপকারী। এছাড়া চুলের গোড়া মজবুত হয় ও চুল পড়া বন্ধ হয় সেই সাথে চুলের উজ্জ্বলতাও বাড়ে।

নিম পাতার রস খাওয়ার নিয়ম
নিম পাতার রস একটি প্রাচীন ও কার্যকর ভেষজ পানীয়, যা সঠিক নিয়মে ও পরিমিতভাবে খেলে শরীরের নানা উপকার করে। সাধারণত সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। দাঁত ব্রাশ করার পর নাস্তার আগে এটি গ্রহণ করলে শরীর সহজে এর উপকারিতা গ্রহণ করতে পারে।
নিম পাতার রস তৈরি করতে ৫–৭টি কচি নিম পাতা ভালোভাবে ধুয়ে অল্প পানির সঙ্গে বেটে বা ব্লেন্ড করে রস বের করতে হয়। এই রস ছেঁকে নেওয়াই উত্তম। তেতো ভাব কমানোর জন্য অল্প পরিমাণ মধু মেশানো যেতে পারে, তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে মধু ব্যবহার করা উচিত নয়।
পরিমাণের দিক থেকে শুরুতে দিনে ১–২ চা-চামচ নিম পাতার রস খাওয়া নিরাপদ। শরীর সহ্য করলে ধীরে ধীরে সর্বোচ্চ ১ টেবিল-চামচ পর্যন্ত নেওয়া যেতে পারে, তবে দিনে একবারের বেশি খাওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
নিম পাতার রস সাধারণত টানা ১০ থেকে ১৪ দিন খাওয়া ভালো। এরপর ১–২ সপ্তাহ বিরতি দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, বিশেষ করে যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে নিম পাতার রস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। গর্ভবতী নারী, ছোট শিশু এবং যাঁরা ডায়াবেটিসের নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, তাঁদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অতিরিক্ত নিম রস খেলে বমি, মাথা ঘোরা বা লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে, তাই সব সময় নিয়ম ও সতর্কতা মেনে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
নিম পাতা সিদ্ধ পানি খাওয়ার উপকারিতা
নিম পাতা সিদ্ধ পানি একটি সহজলভ্য ও প্রাকৃতিক ভেষজ পানীয়, যা সঠিকভাবে ও পরিমিতভাবে খেলে শরীরের নানা উপকার করে। এতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
নিম পাতা সিদ্ধ পানি রক্ত পরিশোধনে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করতে সাহায্য করে, ফলে ত্বক পরিষ্কার থাকে এবং ব্রণ, ফুসকুড়ি ও চুলকানির মতো সমস্যা কমতে পারে। নিয়মিত সীমিত সময়ের জন্য খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়তেও সহায়তা করে।
এই পানি হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। গ্যাস, অম্বল ও পেটের অস্বস্তি কমায় এবং পেটের ক্ষতিকর জীবাণু ও কৃমি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি লিভারকে সুস্থ রাখতে এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
নিম পাতা সিদ্ধ পানি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আছে বা হালকা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি উপকার করতে পারে। তবে এটি কখনোই ডাক্তারের দেওয়া ওষুধের বিকল্প নয়।
এছাড়া নিম পাতা সিদ্ধ পানি শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং ছোটখাটো সংক্রমণ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। ঠান্ডা লাগা বা হালকা জ্বরের সময় শরীরকে আরাম দিতেও এটি সহায়ক হতে পারে।
তবে সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত পরিমাণে বা দীর্ঘদিন নিয়মিত নিম পাতা সিদ্ধ পানি খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে। গর্ভবতী নারী, ছোট শিশু এবং যাঁরা নিয়মিত ডায়াবেটিস বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ খান, তাঁদের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পরিমিত ও সচেতন ব্যবহারই নিম পাতার সিদ্ধ পানির প্রকৃত উপকার নিশ্চিত করে।
নিম পাতার বড়ি খেলে কি হয়
নিম পাতার বড়ি খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা বাড়তে পারে। এতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর জীবাণু দমন করতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে এটি রক্ত পরিশোধনে সহায়ক হিসেবে কাজ করে, যার প্রভাব ত্বকে দেখা যায়—ব্রণ, ফুসকুড়ি বা চুলকানির সমস্যা কিছুটা কমতে পারে।
এই বড়ি হজমশক্তি উন্নত করতেও সহায়তা করতে পারে। গ্যাস, অম্বল বা পেটের অস্বস্তি কমাতে এবং অন্ত্রের ক্ষতিকর জীবাণু নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি উপকারি হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিম পাতার নির্যাস রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে, তাই হালকা ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হতে পারে—তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে।
তবে নিম পাতার বড়ির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। অতিরিক্ত বা দীর্ঘদিন নিয়মিত খেলে বমি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, পেটের সমস্যা এমনকি লিভারের উপর চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, ছোট শিশু এবং যাঁরা ডায়াবেটিস বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ সেবন করেন, তাঁদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সংক্ষেপে বলা যায়, নিম পাতার বড়ি খেলে উপকার হতে পারে, কিন্তু এটি কোনো ম্যাজিক ওষুধ নয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় খাওয়া ঠিক নয়। ভেষজ হলেও এটি ওষুধের মতোই সচেতনভাবে ব্যবহার করা জরুরি।

খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়
খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে উপকারও হতে পারে, আবার ভুল নিয়মে বা অতিরিক্ত খেলে ক্ষতিও হতে পারে। তাই নিম পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা দুটো দিকই জানা জরুরি।
খালি পেটে অল্প পরিমাণ নিম পাতার রস খেলে শরীর সহজে এর কার্যকর উপাদান শোষণ করতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীর পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি রক্ত পরিশোধনে সাহায্য করে, যার প্রভাব ত্বকে দেখা যায়—ব্রণ, ফুসকুড়ি ও চুলকানি ধীরে ধীরে কমতে পারে।
খালি পেটে নিম পাতার রস হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে। এটি পেটের ক্ষতিকর জীবাণু ও কৃমি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা কিছুটা কমাতে পারে। এছাড়া কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সহায়ক হতে পারে, তাই হালকা ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে উপকার পেতে পারেন—তবে এটি কখনোই ওষুধের বিকল্প নয়।
তবে সতর্ক না হলে সমস্যা হতে পারে। খালি পেটে বেশি পরিমাণ নিম পাতার রস খেলে বমি ভাব, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা পেট ব্যথা হতে পারে। দীর্ঘদিন নিয়মিত খেলে লিভারের ওপর চাপ পড়ার আশঙ্কাও থাকে। গর্ভবতী নারী, ছোট শিশু এবং যাঁরা ডায়াবেটিস বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ খান, তাঁদের জন্য খালি পেটে নিম রস খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সংক্ষেপে বলা যায় ( নিম পাতার উপকারিতা ), খালি পেটে অল্প পরিমাণ ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিম পাতার রস খেলে কিছু উপকার পাওয়া যায়, কিন্তু অতিরিক্ত বা দীর্ঘদিন খেলে ক্ষতি হতে পারে। তাই সব সময় পরিমিত ব্যবহার ও প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
নিম পাতা মুখে দিলে কি হয়
নিম পাতায় প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান রয়েছে, যা মুখের ব্রণ, ফুসকুড়ি ও ছোটখাটো সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে আসে এবং রোমকূপ পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। যাদের ব্রণের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে নিম পাতা মুখে দিলে ব্রণ শুকাতে ও নতুন ব্রণ হওয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে।
নিম পাতা মুখে দিলে ত্বকের চুলকানি, লালচে ভাব ও হালকা প্রদাহ কমতে পারে। একজিমা বা ফাঙ্গাল সংক্রমণের মতো সমস্যায় অনেক সময় উপকার দেখা যায়। এছাড়া ত্বকের জীবাণু ধ্বংস করে মুখকে পরিষ্কার ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকে সরাসরি নিম পাতা বাটা দিলে জ্বালা, শুষ্কতা বা র্যাশ হতে পারে। দীর্ঘ সময় মুখে রেখে দিলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই প্রথমবার ব্যবহার করার আগে হাতে বা কানের পেছনে অল্প করে প্যাচ টেস্ট করা খুব জরুরি।
নিরাপদভাবে ব্যবহার করতে চাইলে ৫–৭টি পরিষ্কার নিম পাতা বেটে তার সঙ্গে সামান্য গোলাপ জল বা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিতে পারেন। মুখ পরিষ্কার করে পাতলা করে লাগিয়ে ১০–১৫ মিনিট রেখে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ১–২ বার ব্যবহার করলেই যথেষ্ট।

নিম পাতার ক্ষতিকর দিক
সংক্ষেপে বলা যায়, নিম পাতা মুখে দিলে ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে, কিন্তু পরিমিত ও সঠিক নিয়মে ব্যবহার না করলে ক্ষতি হতে পারে। নিজের ত্বকের ধরন বুঝে ও সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। নিম পাতার উপকারিতা আছে, আবার নিম পাতার উপকারিতার থেকে অপকারিতাও কিছুটা আছে ।
১.অতিরিক্ত গ্রহণে সমস্যা
- বেশি পরিমাণে খেলে বমি, পেট ব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা হতে পারে।
- দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত খাওয়া হলে লিভার ও কিডনিতে চাপ পড়তে পারে।
২. গর্ভবতী নারীদের জন্য ঝুঁকি
- গর্ভাবস্থায় নিম পাতা খেলে গর্ভপাতের ঝুঁকি থাকে।
- তাই গর্ভবতী বা স্তন্যদানরত নারীদের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার এড়ানো উচিত।
৩. ছোট শিশুদের জন্য ক্ষতি
- শিশুদের শরীর এখনও সংবেদনশীল, তাই নিম রস বা বড়ি খাওয়ানো ঝুঁকিপূর্ণ।
- অতিরিক্ত দিলে পেটের সমস্যা বা বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
৪. সংবেদনশীল ত্বকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- মুখ বা ত্বকে সরাসরি নিম পাতা ব্যবহার করলে সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব, শুষ্কতা বা ফুসকুড়ি হতে পারে।
- প্রথমবার ব্যবহার করার আগে প্যাচ টেস্ট জরুরি।
৫. ডায়াবেটিস ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধের সাথে সংযোগ
- নিম রস বা বড়ি রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে।
- তাই ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণকারী বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ সেবনকারী রোগীদের ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া বিপজ্জনক।
উপসংসার
আমি আশা করি যে , আপনি নিম পাতার উপকারিতা জেনে উপকৃত হয়েছেন, এইরকম নিম পাতার উপকারিতার মত আর্টিকেল পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। আর নিম পাতার উপকারিতা সম্পর্কে জানার থাকলে অবস্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
আরও পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় ড্রাগন ফলের উপকারিতা-লাল ড্রাগন ফলের উপকারিতা
FAQ
প্রশ্নঃ নিম পাতার বড়ি বা রস কতদিন খাওয়া নিরাপদ?
উত্তর: পরিমিতভাবে দিনে ১–২ চা-চামচ বা ১ টেবিল-চামচ বড়ি বা রস শুরু করা উচিত। সাধারণত ১০–১৪ দিন খাওয়া যায়, তারপর ১–২ সপ্তাহ বিরতি দেওয়া উচিত । দীর্ঘদিন নিয়মিত খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রশ্ন: নিম পাতার কি কি উপকার আছে?
উত্তর: নিম পাতা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বক ও চুলের সমস্যা কমায়, রক্ত পরিশোধন করে, হজম শক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে এবং হালকা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া মুখ, দাঁত ও মাড়ির সংক্রমণ কমাতেও কার্যকর।
I am Moshiur Rahman, an enthusiastic writer on agricultural information and research. I strive to deliver reliable and easy-to-understand information on modern agricultural technology, crop production, agricultural loans, and agricultural development, so that farmers and all those involved in agriculture can benefit.



