মাজরা পোকা

মাজরা পোকা | ধানের মাজরা পোকা দমনের উপায় ও কীটনাশক ২০২৬

আপনি যদি ধানের মাজরা পোকা সম্পর্কে জানতে চান কিংবা আপনার ধানের জমিতে মাজরা পোকার উপদ্রপ বৃদ্ধি পেয়েছে তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য অনেক উপকারি হবে। মাজরা পোকা এক প্রকার মথজাতীয় পোকা যা ফসলের অনেক ক্ষতি করে। অনেকে এই পোকাকে কৃষকের শত্রুও বলে থাকেন। 

এই আর্টিকেল এর মধ্যে আপনি কি কি জানতে পারবেন? আপনি এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে জানতে পারবেন মাজরা পোকা কি এবং এর প্রকারভেদ, এই পোকা চেনার উপায়, কেন এটি ফসলে মধ্যে হয়, পোকার ক্ষতির লক্ষণ, এই পোকার ছবি, পোকা দমনের উপায়, পোকা দমনের কীটনাশক, এরপর কীটনাশকের দাম ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। তাহলে আর দেরি কেন তাই না? শুরু করা যাক আজকের আলোচনা। 

আলোচনার বিষয়

মাজরা পোকা

মাজরা পোকা এটি কৃষকদের ধান চাষের প্রধান শত্রু। মাজরা পোকা মূলত এক প্রকার মথজাতীয় পোকার লার্ভা বা কীড়া। এটি পাইরালিডি (Pyralidae) পরিবারের অন্তর্গত একদল ক্ষতিকর পোকা।  এই পোকার পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী মথ ধানের পাতার আগায় বা নিচের অংশে গুচ্ছাকারে ডিম পাড়ে। এই ডিম ফুটে লার্ভা বা কীড়া বের হওয়ার পর তারা ধানের কাণ্ডের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ভেতরের নরম অংশ খেয়ে ফেলে। বাংলাদেশে এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে সাধারণত তিন ধরনের মাজরা পোকা ধানের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে।  সেগুলো হচ্ছে হলুদ মাজরা পোকা, কালোমাথা মাজরা পোকা এবং গোলাপী মাজরা পোকা

মাজরা পোকা চেনার উপায়

এখন প্রশ্ন হলো যে আপনি কিভাবে চিনবেন যে কোনটি কোন পোকা। মাজরা পোকা চেনা একদম সহজ খুব বেশি কঠিন কিছু না। আপনি কিছু লক্ষণ দেখেই বুঝতে পারবেন যে সেটা কোন প্রকারের মাজরা পোকা। এছাড়াও, ছবি দেয়া আছে আপনি ছবি দেখলেও খুব সহজেই চিনতে পারবেন। তাহলে চলুন মাজরা পোকা চেনার উপায়গুলো জানি।

১. হলুদ মাজরা পোকা (Yellow Stem Borer):  এটির বৈজ্ঞানিক নাম “Scirpophaga incertulas”,এটি চেনার উপায় হচ্ছে এটির পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী মথ উজ্জ্বল হলুদাভ এবং সামনের পাখার মাঝখানে একটি করে কালো ফোঁটা থাকে। পুরুষ মথ আকারে ছোট এবং হলুদাভ সাদা।

হলুদ মাজরা পোকা
হলুদ মাজরা পোকা

২. কালোমাথা মাজরা পোকা (Striped Stem Borer): এটির বৈজ্ঞানিক নাম ” Chilo suppressalis “, এটি চেনার সহজ উপায় হচ্ছে  এদের কীড়া বা লার্ভার পিঠের ওপর লম্বালম্বিভাবে পাঁচটি খয়েরি রঙের রেখা থাকে এবং মাথা কালো রঙের হয়।

কালোমাথা মাজরা পোকা
কালোমাথা মাজরা পোকা

৩. গোলাপী মাজরা পোকা (Pink Stem Borer): এটির বৈজ্ঞানিক নাম ” Sesamia inferens “, এটি চেনার সহজ উপায় হলো এদের লার্ভা দেখতে গোলাপি রঙের এবং মাথা লালচে খয়েরি। এই পোকা শুধু ধান নয়, গম এবং ভুট্টাতেও আক্রমণ করে। এদের মথগুলো বাদামী রঙের হয়।

গোলাপী মাজরা পোকা
গোলাপী মাজরা পোকা

মাজরা পোকা ফসলে ধরার কারণ কি?

মাজরা পোকা ফসলের মধ্যে ধরার মূল কারণ হচ্ছে অনুকূল আবহাওয়া, অতিরিক্ত ইউরিয়া সারের ব্যবহার এবং চাষাবাদের ত্রুটি । নিচে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হলো:

  • যদি বাতাসের তাপমাত্রা ২৬°C থেকে ৩০°C এর মধ্যে থাকে এবং আর্দ্রতা বেশি থাকে,তাহলে এই পোকা দ্রুত ডিম পাড়ে।
  • অকাল বৃষ্টি বা মেঘলা আকাশ হলে। বিশেষ করে যদি একটানা মেঘলা আবহাওয়া এবং টিপটিপ বৃষ্টি হয় তখন এই পোকার মথদের সক্রিয় করে তোলে।
  • অতিরিক্ত নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সার ব্যবহার করলে ধান গাছ অতিরিক্ত নরম ও রসালো হয়ে যায়, ফলে পোকা খুব সহজেই ধানের কাণ্ডের মধ্যে ঢুকে পরে।  
  • একই জাতের ধান বারবার চাষ একই জমিতে সারাবছর চাষ করলে এই পোকা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে, কেননা তখন তাদের জীবনচক্র চলতে থাকে। 
  • ঘন করে চারা রোপণ করলে চারার মাঝে কোনো আলো ও বাতাস প্রবেশ করতে পারে না ফলে পোকার বৃদ্ধি হয়।
  • এছাড়াও, জমিতে মাত্রাতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করলে পোকা খেকো উপকারী পোকা যেমন: মাকড়সা, লেডি বার্ড বিটল এবং পাখি মারা যায়। ফলে পোকা নিয়ন্ত্রণ করার মতো প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়।

ধানের মাজরা পোকার ক্ষতির লক্ষণ

ধানের মাজরা পোকার বেশ কিছু ক্ষতির লক্ষণ আছে, চলুন জেনে নেয়া যাক ধানের মাজরা পোকার ক্ষতির লক্ষণগুলো কি কি। নিচে মাজরা পোকার ক্ষতির লক্ষণগুলো উল্লেখ করা হলো:

  1. ধান গাছ যখন বড় হতে থাকে, ঠিক তখন পোকাটি কাণ্ডের ভেতরে ঢুকে কাণ্ডের  নরম অংশ খেয়ে ফেলে। এতে গাছের একদম মাঝখানের কচি পাতাটি শুকিয়ে যায়। আপনি যদি ওই শুকনো পাতাটি ধরে টান দেন,তাহলে দেখবেন খুব সহজেই গোড়া থেকে তা উঠে আসছে। এটিকে মূলত মৃত ডিঙি বা ডেড হার্ট বলে।
  2. শীষ বের হওয়ার সময় মাজরা পোকা আক্রমণ করলে ধানের শীষের গোড়া কেটে দেয়। ফলে শীষে রস বা খাবার পৌঁছাতে পারে না এবং পুরো শীষটি শুকিয়ে ধবধবে সাদা হয়ে যায়। এটিকে সাদা শীষ বা হোয়াইট হেড  বলে।
  3. সাদা হয়ে যাওয়া ধানের শীষগুলোতে কোনো চাল হয় না। এগুলো পুরোপুরি চিটা হয়ে যায়। দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে যে ধান পেকেছে, কিন্তু কাছে গেলে দেখা যায় শীষগুলো খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কারণ এর ভেতরে কোনো দানা নেই।
  4.  ধান গাছের গোড়ার দিকে বা মাঝ বরাবর খেয়াল করলে সুঁইয়ের মাথার মতো ছোট ছোট গোল ছিদ্র দেখা যায়। এই ছিদ্রগুলো দিয়েই পোকা কাণ্ডের ভেতরে যাতায়াত করে।
  1. ধান গাছের আক্রান্ত কাণ্ডটি ভাঙলে ভেতরে কাঠের গুঁড়োর মতো পোকার মল বা বিষ্ঠা দেখা যায় এবং অনেক সময় গোড়ার দিকে পচা ভাব ও দুর্গন্ধ থাকে।
  2. আক্রান্ত সাদা শীষ বা শুকনো পাতাটি টান দিলে পচা ও কাটা অবস্থায় উঠে আসে। সুস্থ গাছে টান দিলে কিন্তু এভাবে ছিঁড়ে আসে না।
  3. ধানের পাতার উল্টো দিকে বা আগার দিকে অনেক সময় বাদামী রঙের ছোট ছোট তুলার মতো ডিমের স্তূপ দেখা যায়। এটি দেখলেই বুঝতে হবে যে কয়েকদিনের মধ্যেই এই পোকা জন্ম নিয়ে আক্রমণ শুরু করবে।

মাজরা পোকা ছবি

ধানের ক্ষেত্রে এই পোকা চিনতে গেলে ছবি একমাত্র উপায় যার মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি এই পোকা শনাক্ত করতে পারবে কিংবা চিনতে পারবে। আপনার সুবিধার্থে নিচে মাজরা পোকার ছবি দেয়া হলো। 

মাজরা পোকা
মাজরা পোকা

ধানের মাজরা পোকা দমনের উপায়

ধানের মাজরা পোকা দমনের জন্য কেবল কীটনাশক দিলেই হয় না বরং পরিবেশ ও  ফসলের অবস্থা বুঝে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হয়। এই পোকা দমনে ৪ টি পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়। যথাঃ যান্ত্রিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি,কৃষি তাত্ত্বিক পদ্ধতি,জৈবিক দমন পদ্ধতি ও রাসায়নিক পদ্ধতি। নিচে ৪ টি পদ্ধতিই  বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) এর অনুমোদিত সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM) পদ্ধতি অনুযায়ী শতভাগ সঠিক ও কার্যকরী ধাপগুলি দেয়া হলো।

১. যান্ত্রিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি

যান্ত্রিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি একটি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। নিচে যান্ত্রিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতির মাধ্যমে কিভাবে পোকা দমন করবেন তার উপায় দেয়া হলো:

  • পার্চিং (Perching) পদ্ধতি অবলম্বন করুন। জমিতে প্রতি ৫ শতাংশে একটি করে ১০-১২ হাত দূরে দূরে গাছের ডাল বা বাঁশ পুঁতে দিতে হবে। এর ফলে এতে ফিঙে, শালিক বা বুলবুলির মতো পাখি বসে মাজরা পোকার মথ ও কীড়া খেয়ে ফেলে। এটি সবচেয়ে কার্যকরী ও জনপ্রিয় পদ্ধতি।
  • মাজরা পোকার ডিমের গাদা সংগ্রহ করে সেগুলো নষ্ট করে ফেলতে হবে। চারা অবস্থা থেকে থোড় আসার আগ পর্যন্ত সপ্তাহে অন্তত একবার ক্ষেত পরিদর্শন করে পাতার আগায় থাকা বাদামী রঙের ডিমের গাদা সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে।
  • আলোক ফাঁদ (Light Trap)তৈরী করে হবে। রাতে ক্ষেতের পাশে আলোর ফাঁদ অর্থাৎ একটি বাল্বের নিচে সাবান মিশ্রিত পানি ভর্তি পাত্র বসিয়ে রাখলে এতে পূর্ণবয়স্ক মথ আকৃষ্ট করে মারা যায়। এতে পোকার বংশ বিস্তার কমে।

২. কৃষি তাত্ত্বিক পদ্ধতি

কৃষি তাত্ত্বিক পদ্ধতি অবলম্বন করেও এই পোকা দমন করা যায় । নিচে উপায়গুলো দেয়া হলো:

  • সুষম সার ব্যবহার করতে হবে। জমিতে ইউরিয়া সার অতিরিক্ত দেয়া যাবে না। ইউরিয়া সার বেশি দিলে গাছ রসালো হয় এবং পোকা বেশি আক্রমণ করে। তাই, ইউরিয়ার পাশাপাশি অবশ্যই পটাশ ও সালফার সার পরিমাণমতো দিতে হবে।
  • জমিতে আগাছা সবসময় পরিষ্কার করতে হবে। জমির আইল ও জমির আগাছা সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে, কারণ পোকা সেখানে লুকিয়ে থাকে।

৩. জৈবিক দমন পদ্ধতি

জৈবিক পদ্ধতিতে ট্রাইকোগ্রামা ( Trichogramma ) নামক একপ্রকার পরজীবী ব্যবহার করতে পারেন। এটি এক প্রকার উপকারী পোকা যা এই পোকার ডিম নষ্ট করে দেয়। বর্তমানে অনেক কৃষি কেন্দ্রে এই জৈবিক পরজীবী পাওয়া যায়।

৪. রাসায়নিক পদ্ধতি

রাসায়নিক পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন যখন পোকার আক্রমণ তীব্র হয়। যদি ক্ষেতে ৫% এর বেশি ‘সাদা শীষ’ অথবা ১০% এর বেশি ‘মৃত ডিঙি’ দেখা যায়, তাহলে দ্রুত কার্যকর কীটনাশক দিতে হবে। নিচে অনুমোদিত কিছু গ্রুপের নাম দেওয়া হলো:

  • দানাদার কীটনাশক হিসেবে ফিপনিল (যেমন: রিজেন্ট ৩ জি) অথবা কার্বোফুরান (যেমন: ফুরাডান ৫ জি) প্রতি বিঘাতে নির্ধারিত মাত্রায় দিতে হবে।
  • তরল কীটনাশক হিসেবে ক্লোরপায়রিফস + সাইপারমেথ্রিন (যেমন: নাইট্রো ৫০৫ ইসি বা অটোমিথ্রিন) ১ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে বিকেলে স্প্রে করতে হবে।
  • আধুনিক ও শক্তিশালী কীটনাশক হিসেবে ক্লোর্যান্ট্রানিলিপ্রোল (যেমন: ভার্টিাকো বা বেল্ট এক্সপার্ট) যা খুব অল্প মাত্রায় চমৎকার কাজ করে।

একজন কৃষি বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমার পরামর্শ হলো কীটনাশক ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখবেন যেন জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকে। শুকনো জমিতে দানাদার বিষ ভালো কাজ করে না। আর কীটনাশক সবসময় বিকেলের দিকে স্প্রে করা সবচেয়ে ভালো।

ধানের মাজরা পোকা দমনের কীটনাশক

মাজরা পোকা দমনে সাধারণত দুই ধরণের কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। যথা: ১. দানাদার কীটনাশক যা মাটিতে ছিটিয়ে দিতে হয় এবং ২. স্প্রে বা তরল জাতীয় কীটনাশক যা পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হয়। নিচে ২টি কীটনাশক সম্পর্কেই দেয়া হলো। এটি আপনাকে সহায়তা করবে যে কোনটির জন্য আপনি কোন কীটনাশকটি ব্যবহার করবেন। 

ক) দানাদার কীটনাশকঃ দানাদার কীটনাশক হিসেবে ফিপনিল ৩ জি (Fipronil 3G), কার্বোফুরান ৫ জি (Carbofuran 5G) এবং কার্টাপ ৪ জি (Cartap 4G) রয়েছে । 

খ) স্প্রে বা তরল কীটনাশকঃ স্প্রে বা তরল কীটনাশক এর মধ্যে রয়েছে ক্লোর্যান্ট্রানিলিপ্রোল (Chlorantraniliprole) এবং (ক্লোরপায়রিফস + সাইপারমেথ্রিন) এর মিশ্রন। 

নিচে ২ টি পদ্ধতির কীটনাশকের নাম,পরিমান ও ব্যবহারের সময় দেয়া হলোঃ- 

দানাদার কীটনাশক যা মাটিতে ছিটিয়ে দেয়ার জন্যঃ-

কীটনাশকে ব্র্যান্ডের নামএকর প্রতি মাত্রা প্রতি বিঘা প্রয়োগের নিয়ম
ফিপনিল ৩ জিরিজেন্ট ৩ জি, ফিপজেন্ট১২ কেজি৪ কেজিজমিতে ১-২ ইঞ্চি পানি থাকা অবস্থায় সমভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে।
কার্বোফুরান ৫ জিফুরাডান ৫ জি, কুরাটার১০ কেজি৩.৩ কেজিজমিতে পানির উপস্থিতি নিশ্চিত করে বিকেলে ছেটানো ভালো।
কার্টাপ ৪ জিসানট্যাপ ৪ জি, কেয়ার৭.৫ কেজি২.৫ কেজিচারা লাগানোর ১৫-২০ দিন পর প্রথম কিস্তি হিসেবে ব্যবহারযোগ্য।

তরল বা স্প্রে কীটনাশক যা পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করার জন্যঃ-

কীটনাশকের গ্রুপ ব্র্যান্ডের নামপ্রতি ১০ লিটার পানিতে মাত্রাবিঘা প্রতি পরিমাণ প্রয়োগের নিয়ম
ক্লোর্যান্ট্রানিলিপ্রোলভার্টাকো, বেল্ট এক্সপার্ট৫-১০ গ্রাম/মিলি২০-৪০ মিলিগাছের মাঝখানের ডিঙি পাতা ও গোড়া ভালো করে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
ক্লোরপায়রিফস + সাইপারমেথ্রিননাইট্রো ৫০৫ ইসি, অটোমিথ্রিন২০ মিলি২০০-২৫০ মিলিএটি মথ ও লার্ভা উভয়ই ধ্বংস করে। বিকেলে স্প্রে করা উত্তম।
স্পিনোসাডট্রেসার, সাকসেস৪ মিলি৪০-৫০ মিলিএটি একটি জৈব বালাইনাশক যা খুব কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব।

বাংলাদেশের কৃষকরা কোনটি ব্যবহার করে বেশি ফল পাচ্ছে?

মাঠ পর্যায়ে বাংলাদেশের কৃষকরা বর্তমানে ৩টি কীটনাশক ব্যবহার করে ভালো উপকার পাচ্ছেন। সেগুলো হচ্ছে ভার্টাকো (Virtako), রিজেন্ট ৩ জি (Regent 3G) এবং বেল্ট এক্সপার্ট (Belt Expert)। কেন কৃষকরা এইগুলো ব্যবহার করে ভালো উপকার পাচ্ছে সেই কারণটাও বলি। 

১. ভার্টাকো ( Virtako ) হচ্ছে সিনজেনটা কোম্পানির একটি ঔষধ । যদিও এর দাম কিছুটা বেশি, কিন্তু এটি এক মৌসুমে একবার ব্যবহার করলেই মাজরা পোকা থেকে নিশ্চিন্ত থাকা যায়। এটি ধান গাছকে সতেজ রাখে এবং দানা পুষ্ট করতে সাহায্য করে।

২. রিজেন্ট ৩ জি (Regent 3G) এটি দানাদার বিষের মধ্যে কৃষকদের প্রথম পছন্দ। এটি ব্যবহারে চারা লাগানোর ২০-৩০ দিনের মাথায় ‘মৃত ডিঙি’র হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

৩. বেল্ট এক্সপার্ট (Belt Expert) হচ্ছে বায়ার কোম্পানির এই কীটনাশকটি যা দ্রুত কাজ করার জন্য কৃষকদের কাছে বর্তমান অনেক জনপ্রিয়। বিশেষ করে ধানের শীষ আসার সময় ‘সাদা শীষ’ প্রতিরোধে এটি কৃষকরা বেশি ব্যবহার করেন।

ধানের মাজরা পোকা দমনের কীটনাশক এর দাম

ধানের মাজরা পোকা দমনের কীটনাশক এর দাম স্থান ভেদে কমবেশি হতে পারে, তাই আমার পরামর্শ হলো সঠিক দাম জানার জন্য আপনার নিকটস্থ দোকানে যান এবং আপডেট দাম জানুন। নিচে শীর্ষস্থানীয় এগ্রো-শপ (যেমন: হালাল এগ্রো টেক, অ্যাগ্রো ভ্যালি) এবং সরাসরি কোম্পানি নির্ধারিত এমআরপি (MRP) থেকে সংগৃহীত দামের তালিকা দেয়া হলোঃ- 

১. দানাদার কীটনাশক এর দাম নিচে দেয়া হলোঃ-

কীটনাশকের নামপ্যাক সাইজবর্তমান বাজার দর (১০০% সঠিক)
রিজেন্ট ৩ জি১ কেজি২৫০ টাকা
রিজেন্ট ৩ জি২ কেজি৪৯০ টাকা
ফুরাডান ৫ জি১ কেজি১৮০ টাকা
সানট্যাপ ৪ জি১ কেজি১৮৫ টাকা

২. তরল বা স্প্রে কীটনাশক এর দাম নিচে দেয়া হলোঃ-

কীটনাশকের নামপরিমাণবর্তমান বাজার দর (১০০% সঠিক)
ভার্টাকো ( Virtako 40WG)১০ গ্রাম১৭০ টাকা
ভার্টাকো (Virtako 40WG)৪০ গ্রাম৬৮০ টাকা
বেল্ট এক্সপার্ট (Belt Expert)৫০ মিলি৪০০ টাকা
বেল্ট এক্সপার্ট (Belt Expert)১০০ মিলি৬৯০ টাকা
নাইট্রো ৫০৫ ইসি (Nitro 505 EC)৫০ মিলি১০০ টাকা
নাইট্রো ৫০৫ ইসি (Nitro 505 EC)১০০ মিলি১৫৫ টাকা

কিছু পরামর্শ 

আপনি যখন কোনো ঔষধ বা কীটনাশক ব্যবহার করবেন তার আগে অবশ্যই একজন কৃষি বিশেষজ্ঞ কিংবা দোকানদার থেকে সেটি ব্যবহারের নিয়ম জেনে নিবেন। এছাড়াও, প্রতিটা ঔষধের প্যাকেটের উপরে সেই ঔষধের উপাদান ও ব্যাবহারের নিয়ম সুন্দর করে দেয়া আছে , আপনি সেটাও দেখে নিতে পারেন। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে কখনো না জেনে ভুল ঔষধ কিংবা কীটনাশক আপনার ফসলে প্রয়োগ করবেন না। 

উপসংহার 

আমি আশা করি যে, আপনি পুরো টপিক বুঝতে পেরেছেন। এছাড়াও, আপনার যদি কোনো বিষয় জানার থাকে কিংবা জানতে চান তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানান কিংবা আমাদেরকে ইমেইল করুন । আমি চেষ্টা করব আপনাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য। 

FAQs

১. মাজরা পোকার ক্ষতির লক্ষণ কী কী?

উত্তরঃ গাছের মাঝখানের কচি পাতা শুকিয়ে যায় যাকে মৃত ডিঙিবলে যা টান দিলে উঠে আসে এবং শীষ আসার পর আক্রমণ করলে শীষ সাদা ও চিটা হয়ে যায়।

২. মাজরা পোকা কত প্রকার ও কি কি?

উত্তরঃ বাংলাদেশে মূলত তিন প্রকার মাজরা পোকা দেখা যায়। সেগুলো হচ্ছে  হলুদ মাজরা পোকা, কালোমাথা মাজরা পোকা এবং গোলাপী মাজরা পোকা।

৩. ধানের মাজরা পোকা দমনের কীটনাশক এর নাম?

উত্তরঃ কার্যকর কীটনাশকের মধ্যে রয়েছে দানাদার রিজেন্ট ৩ জি ও ফুরাডান ৫ জি এবং তরল স্প্রে হিসেবে ভার্টাকো বা বেল্ট এক্সপার্ট।

৪. মাজরা পোকা দমনে সবচেয়ে ভালো কীটনাশক কোনটি?

উত্তরঃ বর্তমানে সবচেয়ে ভালো ও দীর্ঘস্থায়ী ফল দেয় ভার্টাকো এবং বেল্ট এক্সপার্ট  কীটনাশক।

৫. ধানের মাজরা পোকা কোথায় ডিম পাড়ে?

উত্তরঃ মাজরা পোকার মথ সাধারণত ধানের পাতার আগার দিকে অথবা পাতার উল্টো পিঠে গুচ্ছাকারে ডিম পাড়ে।

৬. মাজরা পোকা ওষুধের নাম?

উত্তরঃ মাজরা পোকা ওষুধের মধ্যে জনপ্রিয় কিছু ঔষধ হলো: রিজেন্ট, ফুরাডান, সানট্যাপ (দানাদার) এবং ভার্টাকো, নাইট্রো বা বেল্ট (তরল)।

৭. ধানের মাজরা পোকা কোন ধরনের পোকা?

উত্তরঃ ধানের মাজরা পোকা হলো এক প্রকার ক্ষতিকর মথজাতীয় পোকা, যার লার্ভা বা কীড়া ধানের কাণ্ডের ভেতরে ঢুকে ক্ষতি করে।

৮. ভুট্টার মাজরা পোকা দমনে কীটনাশক?

উত্তরঃ ভুট্টার ক্ষেত্রে বেল্ট এক্সপার্ট বা ভার্টাকো স্প্রে করা অথবা গাছের মাথায় সামান্য ফুরাডান দানাদার বিষ দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর।

শেয়ার করুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *